দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারুফ বেপারি নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে দাবি স্বজনদের। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি পরিবারের স্বজনদের জানানো হয়।
এর আগে, গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের বুষ্টার এলাকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গুলিতে নিহত হন মারুফ।
নিহত মারুফ বেপারি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের পশ্চিম সিড্যা এলাকার মৃত আব্দুস সোবহান বেপারির ছেলে। তার তিন সন্তান রয়েছে। মারুফের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে।
স্থানীয় ও স্বজনরা জানায়, জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন মারুফ বেপারি। সেখানে ১৪ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। বুষ্টার এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্থানীয় সন্ত্রাসী একটি গোষ্ঠী নিরাপত্তার নামে মারুফের কাছে প্রতি মাসে দক্ষিণ আফ্রিকান ৫০০ র্যান্ড দাবি করতেন।
সম্প্রতি চাঁদার টাকা নিয়ে তাদের সঙ্গে মারুফের বিরোধ হয়। এর জেরেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় প্রবাসী ও পরিবারের। তার মরদেহ বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে রয়েছে। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বজনরা।
নিহত মারুফের ভাতিজা কামরুজ্জামান বেপারি বলেন, ‘আফ্রিকার ওই এলাকায় ব্যবসা করলে স্থানীয় সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের প্রতি মাসে ৫০০ র্যান্ড দিতে হয়। আমার কাকা গত তিন মাসের মধ্যে এক মাস দোকান চালিয়েছেন, বাকি দুই মাস বন্ধ ছিল। তাই তিনি শুধু এক মাসের চাঁদা দিতে চেয়েছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই গোষ্ঠীর লোকজন ৫০০ র্যান্ড নিয়ে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে কাকাকে গুলি করে হত্যা করে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে যেন তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।’
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল আকন বলেন, ‘মারুফ বেপারি আমার প্রতিবেশীও হয়। তিনি এলাকায় আসলে আমার সঙ্গে কথাবার্তা হতো। তাকে গতকাল রাতে দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। মাঝেমধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের দেশের লোকজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে যারা প্রবাসে যায় তারা রেমিট্যান্সযোদ্ধা। তারা সেখানে কঠোর পরিশ্রম করে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠায়, সেটা বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী আয়ের খাত। তাদের নিরাপত্তা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তারা যেহেতু বৈধভাবে ব্যবসা করেন, তাই সন্ত্রাসীদের চাঁদা দাবি করা অনৈতিক। আমরা মনে করি, সেসব দেশের দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলে প্রবাসীদের নিরাপত্তা দেওয়া জরুরি। সূত্র-খবরের কাগজ


















