২০০৯ সালে ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে একাধিক সেনাসদস্যকে হত্যাকারী ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবারের (১৫ অক্টোবর) দেয়া এই ঘোষণার মাধ্যমে নিজের প্রশাসনের আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন তিনি। গত সপ্তাহে পেন্টাগন জানিয়েছিল, মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্যটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ট্রাম্প নিজেও সে সময় এই পরিকল্পনায় তার ‘পূর্ণ সমর্থন’ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। অথচ বিভিন্ন সময় বিদেশি সরকারগুলোর প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কড়া সমালোচনা করে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলো।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দণ্ডপ্রাপ্ত হামলাকারী নিদাল মালিক হাসানকে ‘অত্যন্ত দুর্ধর্ষ ও জঘন্য ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যা দেন। সেই সঙ্গে টেক্সাসের ওই হামলায় ১৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পেছনে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের ‘গোয়েন্দা ব্যর্থতাকে’ দায়ী করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, ‘এসবের পর আমার মনে হয়, সবার সামনে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা হলে বিশ্ব দেখতে পেত আমেরিকা কীভাবে সন্ত্রাসী ও হাসানের মতো কীটদের শাস্তি দেয়, যা এক কঠোর সতর্কবার্তা হতে পারত। তবে অনেক ভালো ও সৎ উদ্দেশ্যপ্রবণ মানুষ তার মৃত্যুর দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার বা অন্য কোনও মাধ্যম বা যন্ত্রের সাহায্যে প্রত্যক্ষ করতে চান না।’
ট্রাম্প যোগ করেন, ‘পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, তবে তা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না।’ তবে ভুক্তভোগীদের পরিবারের নিকটাত্মীয়রা এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাবেন বলে তিনি জানান। এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘোষণা দিয়েছিলেন, এই মৃত্যুদণ্ড ‘জনসমক্ষে’ কার্যকর করা হবে। ডানপন্থি সাংবাদিক জ্যাক পসোবিকের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে হেগসেথ বলেন, ‘কারণ মানুষের জানা প্রয়োজন যে এ ধরনের অপরাধের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।
তিনি আরও জানান, আগামী ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১২ টায় নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। তবে এ ঘোষণার পর ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন সদস্যসহ বহু আইনপ্রণেতা তীব্র নিন্দা জানান।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, প্রকাশ্যে এই হত্যা সরাসরি সম্প্রচার করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। কারণ দেশটিতে অশ্লীল, অশালীন বা বীভৎস দৃশ্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা ছাড়া এই লাইভস্ট্রিম থেকে নাবালকদের দূরে রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলেও অনেকে যুক্তি তুলে ধরেন।
খবর আল জাজিরার


















