যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে গেছেন ব্রাজিলের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর আদালতের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান ডানপন্থি এই প্রার্থী। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোথায় পৌঁছেছেন, তা জানা যায়নি। কারাবন্দি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর এই ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর খবর প্রকাশিত হলেও তিনি কীভাবে দেশ ছেড়েছেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। ফ্লাভিওর ব্রাজিলীয় ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের একটি সূত্র।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ফ্লাভিও বলসোনারো গত রোববারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে হেরে যান। তবে তিনি পরাজয় স্বীকার করেননি। এর মধ্যে তার যুক্তরাষ্ট্রে পালানোর খবর জানাল মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো।
নির্বাচনের পরদিন গত সোমবার ব্রাজিলের ডানপন্থি এই সিনেটর জানান, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি তাকে পাসপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় তিনি সংসদীয় দায়মুক্তিও হারাতে যাচ্ছেন।
সিএনএন ও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন। দুটি সংবাদমাধ্যমই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোথায় পৌঁছেছেন, তা জানা যায়নি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ফ্লাভিও ও তার পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেয়া হবে। তবে তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা সম্পর্কে দপ্তরটি নিশ্চিত করে কিছু বলেনি।
ব্রাজিলের পুলিশের একটি সূত্র বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, ফ্লাভিওর ব্রাজিলীয় ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। ওই সূত্র আরও বলেছে, ‘ফ্লাভিও বলসোনারোর দেশ ছাড়ার কোনো আনুষ্ঠানিক নথি নেই।’
তবে এএফপির হাতে আসা ইতালির পার্লামেন্টের একটি নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে ইতালির নাগরিকত্ব রয়েছে ফ্লাভিওর।
এদিকে ফ্লাভিওর নির্বাচনী প্রচারের ব্যবস্থাপক রোজেরিও মারিনিও ব্রাজিল ছেড়ে তার পালিয়ে যাওয়ার খবর শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তিনি কোথায় আছেন, সে বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে কোনো খবর নেই।
মারিনিও বলেন, ‘আজ সকালে তার কাছ থেকে একটি খুদে বার্তা পেয়েছি। তিনি বলেছিলেন, আজ কিছুটা সময় যেতে দেবেন, এরপর আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন। এটুকুই। তিনি আরও বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে আমাদের এটাই ছিল একমাত্র যোগাযোগ।
এদিকে ব্রাজিল ছেড়ে ফ্লাভিওর চলে যাওয়ার ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট লুলা। নিজের ৮১তম জন্মদিন উদ্যাপন উপলক্ষে ব্রাসিলিয়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি গোপনে নিজের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়, তার নিশ্চয়ই লুকানোর কিছু আছে। ব্রাজিল ছেড়ে যাওয়ার এই ঘটনা লজ্জাজনক।’
এর আগে গত সোমবার ফ্লাভিও বলসোনারো বলেছিলেন, ব্রাজিল ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আসলে তাকে ভয় দেখানোর কৌশল। সেদিন ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘দেশ ছাড়ার কোনো ইচ্ছাই আমার কখনো ছিল না।’
সংবাদমাধ্যম বলছে, জাইর বলসোনারোর ঘনিষ্ঠ মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গত সোমবার বলসোনারো জুনিয়রের পরাজয়ের পর ব্রাজিলের নির্বাচনকে ‘কারচুপিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন।
এছাড়া ফ্লাভিওর ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সাবেক আইনপ্রণেতা। হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি পডকাস্টে এদুয়ার্দো বলেছিলেন, নির্বাচনে হেরে গেলে ফ্লাভিওর ব্রাজিল ছেড়ে যাওয়া উচিত। কারণ, তার কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত চলছে। সোমবারের বিবৃতিতে লুলার এই প্রতিদ্বন্দ্বী আরও বলেন, তিনি বামপন্থি সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের নেতৃত্ব দেবেন।
প্রসঙ্গত, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন লুলা। তবে ফল বাতিলের উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন ফ্লাভিও। তার যুক্তি, পরিবহন সমস্যার কারণে কিছু ভোটার ভোট দিতে পারেননি। এ পরিস্থিতিতে ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কারণে নির্বাচনের ফল বাতিল করা উচিত।
অবশ্য খারাপ আবহাওয়ার কারণে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেছিলেন লুলা। একই অনুরোধ জানিয়েছিলেন বলসোনারোও।


















