প্রকৃতিতে পাখি পর্যবেক্ষণ বয়স্ক মানুষের স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পাখি শনাক্ত করার চর্চা মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে পারে, যা বয়সজনিত মানসিক সক্ষমতা হ্রাসের গতি ধীর করতেও সহায়ক হতে পারে।
ইংল্যান্ডের গ্রামাঞ্চলে প্রতি সপ্তাহে একদল প্রবীণ পাখিপ্রেমী ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঠের তৈরি একটি আড়ালঘরে বসে দূরবীন দিয়ে পাখি দেখেন। তারা উৎসাহের সঙ্গে একে অপরকে দেখান, কে কী দেখতে পেয়েছেন। নুড়িপাথরে ঢাকা মাটিতে খাবার খুঁজছে লম্বা, উজ্জ্বল ঠোঁটের একটি ঝিনুকখেকো পাখি। পানিতে ভেসে রয়েছে দুটি বড় ঝুঁটিওয়ালা ডুবুরি পাখি; তাদের মাথার পালকের ঝুঁটি সুন্দরভাবে সাজানো।
শুরুতে হ্যারল্ড কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলেন। তবে কেউ একটি রবিন পাখি দেখিয়ে দেওয়ার পর তার মুখে হাসি ফুটে ওঠে। পানিতে হাঁসের ছটফটানি দেখেও তিনি আনন্দ পান। কাছের গাছগুলোর মধ্যে নীলচে ছোট পাখিরা উড়ে বেড়াচ্ছিল। আর লুসি দেখলেন, দীর্ঘদিন পর তার বাবা প্রাণ খুলে হাসছেন।
যুক্তরাজ্যের অলাভজনক সংস্থা এজ ইউকের কমিউনিটি ডিমেনশিয়া পরামর্শক জেনি বুডিঙ্গার বলেন, ‘সেই মুহূর্তে তিনি পুরোপুরি বর্তমানের মধ্যে ছিলেন। নিজের স্মৃতিশক্তি বা আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন না। বিষয়টি খুবই শক্তিশালী প্রভাব ফেলে, তবে তা আসে অত্যন্ত কোমল উপায়ে।’
বয়স্ক মানুষ ও ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সময় কাটানোর একটি মূল্যবান উপায় হিসেবে পাখি পর্যবেক্ষণের স্বীকৃতি ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রবীণ নিবাসে এ ধরনের দল ও কার্যক্রম গড়ে উঠেছে। এমনকি জানালা দিয়ে পাখি দেখার সুযোগও বয়স্ক মানুষকে অন্যদের সঙ্গে বেশি সংযুক্ত বোধ করতে, ইতিবাচক আবেগ অনুভব করতে এবং স্মৃতিসংক্রান্ত দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
এখন নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, পাখি পর্যবেক্ষণ মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে পারে—যেমন কোনো খেলাধুলা বা বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখার ক্ষেত্রে ঘটে। এমনকি এটি মস্তিষ্কের বার্ধক্যের গতিও ধীর করতে পারে।
আরও সুসংগঠিত মস্তিষ্ক
গবেষণাগারে স্নায়ুবিজ্ঞানীরা অনুসন্ধান করছেন, পাখি পর্যবেক্ষণ মস্তিষ্কে কী ধরনের প্রভাব ফেলে। তারা আগ্রহী পাখি পর্যবেক্ষকদের পাখি শনাক্ত করার দক্ষতা পরীক্ষা করে অভিজ্ঞ ও নবীন পর্যবেক্ষকদের আলাদা করেন। এরপর তাদের মস্তিষ্ক পরীক্ষা করা হয়।
বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, অভিজ্ঞ পাখি পর্যবেক্ষকদের মস্তিষ্কের গঠনই নবীনদের তুলনায় ভিন্ন। তাদের ধারণা, পাখি পর্যবেক্ষণে দক্ষতা অর্জন মস্তিষ্ককে আরও সুসংগঠিত রাখতে সাহায্য করতে পারে, যা বয়সজনিত মানসিক সক্ষমতা হ্রাসের গতি ধীর করার সম্ভাবনা তৈরি করে।
কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত বেক্রেস্ট একাডেমি ফর রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশনের গবেষক এরিক উইং এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন। পাখি শনাক্ত করার সময় অভিজ্ঞ ও নবীন পর্যবেক্ষকদের মস্তিষ্কের এমআরআই স্ক্যান তুলনা করেন তিনি।
উইং দেখতে পান, অভিজ্ঞ পাখি পর্যবেক্ষকদের মস্তিষ্কের এমন কিছু অঞ্চলে স্নায়বিক সংযোগের ধরন ভিন্ন, যেগুলো মনোযোগ, দৃশ্যগত উপলব্ধি ও দৃশ্য দেখে কোনো কিছুকে শনাক্ত করার মতো কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অভিজ্ঞ পাখি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে এসব অঞ্চলে বেশি কার্যক্রম দেখা যায়। বিশেষ করে তাদের আগে পরিচিত নয়, এমন পাখি শনাক্ত করতে বললে এই সক্রিয়তা আরও স্পষ্ট হয়।
তবে গবেষণার ফলাফল থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না, মস্তিষ্কের গঠনগত পার্থক্য পাখি পর্যবেক্ষণে দক্ষতা অর্জনের কারণ, নাকি দক্ষতা অর্জনের ফল। উইংয়ের মতে, এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, পাখি পর্যবেক্ষণের সময় মস্তিষ্কের যেসব অঞ্চল ব্যবহৃত হয়, সেগুলোতে ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’ ঘটতে পারে। অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যক্রম পরিবর্তিত হওয়ার ক্ষমতা সক্রিয় হতে পারে।
উইং পাখি পর্যবেক্ষকদের মস্তিষ্ক কতটা সুসংগঠিত, তা-ও বিশ্লেষণ করেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণত মস্তিষ্কের সংগঠন কমে আসে। মস্তিষ্কের সংগঠনের মাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে চিন্তাশক্তি ও অন্যান্য জ্ঞানীয় সক্ষমতা হ্রাসের সম্পর্কও রয়েছে।
কিন্তু একই বয়সী নবীন পর্যবেক্ষকদের তুলনায় অভিজ্ঞ পাখি পর্যবেক্ষকদের মস্তিষ্কের কিছু অঞ্চলে সংগঠন ও সমন্বয়ের মাত্রা বেশি পাওয়া যায়। এসব অঞ্চলের কয়েকটিতে পাখি শনাক্ত করার সময় বেশি কার্যক্রমও দেখা গিয়েছিল।
উইংয়ের ভাষায়, বয়স বাড়লেও অভিজ্ঞ পাখি পর্যবেক্ষকদের মস্তিষ্কে একধরনের ‘সংগঠন ধরে রাখার’ প্রবণতা দেখা যায়।
এই সংগঠন কীভাবে বজায় থাকে এবং সামগ্রিক জ্ঞানীয় সক্ষমতার সঙ্গে এর সম্পর্ক কী, তা বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তবে আপাতত ফলাফল থেকে ধারণা করা যায়, জীবনের অপেক্ষাকৃত কম বয়সে এই দক্ষতা অর্জন করলে তার সুফল পরবর্তী জীবনেও পাওয়া যেতে পারে বলে উইং মনে করেন।
জেনারেশন জেড বা ১৬ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে যারা পাখি পর্যবেক্ষণে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি সুখবর। কারণ, বার্ধক্যে পৌঁছানোর অনেক আগেই তারা দূরবীন হাতে নিয়ে এই শখ শুরু করছেন।
ডিমেনশিয়ার চিকিৎসায় পাখি পর্যবেক্ষণ
উইংয়ের গবেষণায় পাখি পর্যবেক্ষণে দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে অন্য গবেষণার ফলাফল বলছে, বিশেষ জ্ঞান বা দক্ষতা না থাকলেও পাখি দেখার মানসিক উপকার পাওয়া সম্ভব।
প্রকৃতির সান্নিধ্যে মানসিক প্রশান্তি, স্বাধীনতার অনুভূতি ও নতুন উদ্যম ফিরে পাওয়াকে মনস্তাত্ত্বিক পুনরুজ্জীবন বলা হয়। এ ক্ষেত্রে দক্ষতার চেয়ে আগ্রহ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
পোল্যান্ডে ৩৮৮ জন পাখি পর্যবেক্ষকের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অন্য কাজের তুলনায় পাখি দেখায় বেশি আগ্রহী এবং এটিকে নিজেদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন, তারা বেশি মানসিক প্রশান্তি ও পুনরুজ্জীবনের অনুভূতি পান। অন্যদিকে, যাঁদের পাখি শনাক্ত করার দক্ষতা বেশি, কিন্তু আগ্রহ তুলনামূলক কম, তাদের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা কম দেখা যায়। অর্থাৎ পাখির প্রতি আগ্রহ তৈরি করাটাই নিজস্ব কিছু উপকার বয়ে আনতে পারে।
জার্মানির ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আইখস্ট্যাট-ইঙ্গোলস্ট্যাটের সামাজিক ও সাংগঠনিক মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক এলিজাবেথ কালস জানতে আগ্রহী, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কীভাবে জীবনের অভিজ্ঞতা ও সুস্থতাকে প্রভাবিত করে। এ বিষয়ে তিনি প্রবীণ নিবাসে বসবাসকারী ব্যক্তিদের স্থানীয় পাখি দেখার সুযোগ তৈরি হলে কী পরিবর্তন ঘটে, তা নিয়ে গবেষণা করেন।
তার দল ৬৫টি প্রবীণ নিবাসের বাইরে পাখিদের খাবার দেওয়ার জায়গা তৈরি করে। এমনভাবে সেগুলো স্থাপন করা হয়েছিল, যাতে বাসিন্দারা ঘরের ভেতরের সাধারণ বসার জায়গায় বসেই পাখি দেখতে পারেন।
গবেষকেরা বাসিন্দাদের নিজেদের দেওয়া তথ্যের পাশাপাশি কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের মতামত নিয়ে তাদের চিন্তাশক্তি, চলাফেরার সক্ষমতা ও সামগ্রিক সুস্থতা মূল্যায়ন করেন।
মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উন্নতির লক্ষণ দেখা যায়। এক মাস পর বাসিন্দাদের সুস্থতার অনুভূতি ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে তাদের বয়স ও পরিচর্যার মাত্রার চেয়েও পাখি পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কালস বলেন, ফলাফল স্পষ্টভাবেই ইতিবাচক ছিল। তার মতে, পাখি পর্যবেক্ষণে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের জ্ঞানীয় সক্ষমতা ও মানসিক তৎপরতা বেড়েছিল। তারা কথোপকথন আরও ভালোভাবে অনুসরণ করতে পারতেন, বেড়াতে আসা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন, আগে দেখা পাখি মনে রাখতে ও চিনতে পারতেন এবং আশপাশের বিষয়ে আরও সজাগ থাকতেন।
প্রবীণ নিবাসের কর্মীরাই প্রথম পাখি দেখার এই পরিবর্তন লক্ষ করেন। কালস বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা কোনো বাসিন্দার মুখে হাসি দেখেননি। এরপর হঠাৎ সেই হাসি দেখতে পান।’
কালসের মতে, স্মৃতি ও মনোযোগের কিছু উন্নতি মাত্র তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যেই স্পষ্ট হতে পারে। তার দলের গবেষণার ফলাফলে উৎসাহিত হয়ে জার্মানির স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠানগুলো বাভারিয়া অঞ্চলের ৪০০টিরও বেশি প্রবীণ নিবাসে পাখির খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা ও পাখি দেখার উপযোগী জায়গা তৈরিতে বিনিয়োগ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি প্রাথমিক পর্যায়ে গবেষণাটির অর্থায়নও করেছিল।
কালস বলেন, ‘এটি এতটাই কার্যকর ছিল যে শেষ পর্যন্ত অর্থেরও সাশ্রয় হয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রেও একই ধরনের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৩ সালে কানেকটিকাটের চারটি পরিচর্যাকেন্দ্রে এই কার্যক্রম শুরু হয়। পরে তা টেক্সাস ও কলোরাডোতেও ছড়িয়ে পড়ে।
‘বার্ড টেলস’ নামের এই থেরাপি কর্মসূচিটি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরি। এতে তাদের বসবাসের প্রতিষ্ঠানে পাখির খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন পাখির মতো ডাক দিতে পারে এমন নরম খেলনা পাখি দেওয়া হয়, যাতে তারা বিভিন্ন প্রজাতি সম্পর্কে জানতে পারেন।
এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, পাখি নিয়ে এই কার্যক্রম চিন্তাভাবনায় উদ্দীপনা জোগায় এবং অতীতের স্মৃতির সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে।
স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনেও একই ধরনের কর্মসূচির সুফল দেখা গেছে। স্ট্রোকের পর কারও কারও অ্যাফেসিয়া হতে পারে, যার ফলে কথা বলতে কিংবা অন্যের কথা বুঝতে অসুবিধা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মন্টানার নিবিড় ও সমন্বিত অ্যাফেসিয়া পুনর্বাসন কর্মসূচিতে ২০২১ সালে পেঁচা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এতে মন্টানা অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় পাখি পর্যবেক্ষণ এবং তাদের ডাক শনাক্ত করার জন্য নির্দেশিত অনুশীলনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পাখি দেখা আমাদের চিন্তা ও অনুভূতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে কেন?
পাখি পর্যবেক্ষণ মানুষের অনুভূতি ও চিন্তাভাবনায় এত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে কেন?
কালসের মতে, বিষয়টি শুধু পাখির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে প্রকৃতি, মনোযোগ, আবেগ, জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়া, সামাজিক যোগাযোগ ও সক্রিয়ভাবে কিছু করার অভিজ্ঞতা—সবকিছু একসঙ্গে কাজ করে। এই সহজ কার্যক্রম মানুষের মধ্যে কৌতূহল, আনন্দ ও কোনো কিছু দেখার জন্য অপেক্ষার মতো অনুভূতি তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই কার্যক্রমে অংশ নেওয়া অত্যন্ত সহজ।’
যুক্তরাজ্যে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিচর্যাকারীদের নিয়ে পরিচালিত এক জরিপে এর প্রতিফলন দেখা যায়। জরিপ অনুযায়ী, প্রকৃতিতে হাঁটার পর বাইরে সময় কাটানোর দ্বিতীয় জনপ্রিয় কার্যক্রম হলো পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী দেখা।
একই জরিপে দেখা গেছে, যাতায়াতের ব্যবস্থা ও বিভিন্ন জায়গায় প্রবেশের সুবিধা ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বড় বিবেচ্য বিষয়। তবে যারা রান্নাঘরের জানালা দিয়েই পাখি দেখতে পারেন, তাদের ক্ষেত্রে এই বাধা তুলনামূলক কম হতে পারে।
উইংয়ের মতে, পাখি পর্যবেক্ষণ কৌতূহল অনুসন্ধানের একটি উপায়। আর এই কৌতূহলই সম্ভবত এর উপকারিতার অন্যতম কারণ।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, জীবনের মধ্যবয়স থেকে শুরু করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জীবনে নতুনত্বের অভিজ্ঞতা আরও বেশি করে যুক্ত করার অনেক উপকারিতা রয়েছে।’
বয়স বাড়ার পরও জ্ঞানীয় সক্ষমতা বজায় রাখতে কৌতূহল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর একটি সম্ভাব্য কারণ হলো, কৌতূহল মস্তিষ্কে নরঅ্যাড্রেনালিন ও ডোপামিনের কার্যক্রম সক্রিয় করতে পারে। এসব রাসায়নিক পদার্থ মস্তিষ্কের কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে এবং প্রদাহবিরোধী ইতিবাচক প্রভাবের সঙ্গেও সম্পর্কিত।
কালসের কাছে, চারপাশে ডাকতে থাকা ও উড়ে বেড়ানো পাখিদের চিনে নেওয়া আসলে নিজেদের পরিচয় ও অস্তিত্বকে নতুন করে উপলব্ধি করার একটি উপায়। তিনি বলেন, ‘মানুষ হিসেবে আমরা প্রকৃতিরই অংশ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে জীবনের বেশ শুরুতেই আমরা সেই সংযোগ হারিয়ে ফেলি। পাখি পর্যবেক্ষণ সেই সম্পর্ক আবার গড়ে তোলার একটি উপায়, আর এটি করা খুবই সহজ। –চ্যানেল 24


















