শেখ হাসিনা সত্যিই দেশে ফেরার চিন্তা করলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির যতটুকু অবশিষ্ট রয়েছে, সেটুকুরও কবর রচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সারজিস আলম। আজ শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে দৈনিক পঞ্চগড় খবর পত্রিকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন—এমন গুঞ্জন প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, বিষয়টিকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তবে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার চিন্তা করলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অবশিষ্টাংশও শেষ হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি পতিত স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়েছে। জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রেও পতনের পর কিছুদিন নানা ধরনের তৎপরতা দেখা গিয়েছিল। সর্বশেষ নির্বাচনে তাদের রাজনৈতিক অবস্থার অবসান হয়েছে। আওয়ামী লীগকে ঘিরে এখন যেসব কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে, সেগুলো শেষ হতেও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
মানুষের মধ্যে এখনো তীব্র ক্ষোভ রয়েছে উল্লেখ করে সারজিস বলেন, কেউ পা হারিয়েছেন, কেউ হাত হারিয়েছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্যকে হারিয়েছেন। তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বললেই ক্ষোভের মাত্রা বোঝা যায়। ৫ আগস্ট গণভবনে শেখ হাসিনা থাকলে যে পরিস্থিতি তৈরি হতো, ডিসেম্বরে বাংলাদেশের কোথাও তার অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও একই পরিস্থিতি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোট হয়েছিল। বর্তমানে সংসদে তারা বিরোধী দলীয় জোট হিসেবে একসঙ্গে কাজ করছেন। সেই জোট এখনো চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত, এনসিপি ও অন্যান্য দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে এককভাবে নির্বাচন করবে—এটি দলীয় সিদ্ধান্ত।
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপির দুই নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদকে মেয়র প্রার্থী করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের সমঝোতা বা ছাড় দেওয়ার জন্য তাদের প্রার্থী করা হয়নি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাবেন।
বিএনপির সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, গত আট মাসে বিএনপি প্রতিনিয়ত অজনপ্রিয় হয়েছে। দেশে হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের সংখ্যা বেড়েছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হয়েছে এবং সুশাসন দিন দিন কমেছে। এসব কারণে জনগণ বিকল্প হিসেবে এনসিপিকে বেছে নেবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
এসব বিষয়ে তাদের অবস্থানের কারণে সংসদে বিরোধী দলীয় জোটের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও মনে করেন সারজিস আলম।


















