জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার লাউচাপড়া অবসর বিনোদন পর্যটন কেন্দ্রের ইজারা নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হওয়ার প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কার্যাদেশ পাননি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী। এতে একদিকে যেমন আটকে রয়েছে তাঁর জমাকৃত জামানতের টাকা, অন্যদিকে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে সরকারের সম্ভাব্য লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আদায়।
জানা গেছে, জামালপুর জেলা পরিষদের মালিকানাধীন বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নে অবস্থিত লাউচাপড়া অবসর বিনোদন পর্যটন কেন্দ্রটি প্রতিবছর ইজারা দেওয়া হয়। চলতি বছর কয়েক দফা দরপত্র আহ্বান করা হলেও কোনো দরদাতা সিডিউল সংগ্রহ করেননি। পরবর্তী সময়ে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হলে ব্যবসায়ী ফজলে এলাহী মাকাম ১৩ লাখ ৫১ হাজার টাকার ব্যাংক জামানত জমা দিয়ে দরপত্রে অংশ নেন এবং সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মনোনীত হন।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে তৎকালীন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবারও দরপত্র আহ্বান করেন। দ্বিতীয় দফার দরপত্রেও সিডিউল সংগ্রহ করে ১৪ লাখ ৩ হাজার ১০০ টাকার ব্যাংক জামানত জমা দিয়ে অংশগ্রহণ করেন ফজলে এলাহী মাকাম। ওই দরপত্রেও তিনি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হন।
অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাবুর মৌখিক নির্দেশে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে লাউচাপড়া পিকনিক স্পটের টোল আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে টোল আদায় কার্যক্রম শুরু করেন ইজারাদার। সরকার নির্ধারিত হারে দুই দিন টোল আদায় করার পর মৌখিক নির্দেশে তাঁদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এরপর প্রায় চার মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। এমনকি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর জমাকৃত জামানতের টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলে একদিকে তাঁর বিপুল পরিমাণ অর্থ জেলা পরিষদে আটকে রয়েছে, অন্যদিকে ইজারা কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়ার কথা থাকলেও কী কারণে দীর্ঘ চার মাস ধরে বিষয়টি ঝুলে রয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মনোনীত ব্যবসায়ী মো. ফজলে এলাহী মাকাম বলেন, ‘আমি সরকারি নিয়ম মেনে দরপত্রে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছি। অথচ চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কার্যাদেশ পাইনি। আমার জমাকৃত মোটা অঙ্কের জামানতের টাকা জেলা পরিষদে আটকে রয়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে আমি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হব।’
এ বিষয়ে জামালপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল হক বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লাউচাপড়া বিনোদন কেন্দ্রটির ইজারার দর অনেক বেশি নির্ধারণ করা হয়েছিল। অতিরিক্ত দামে ইজারা নেওয়ার পর অনেক ঠিকাদারকে আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মনোনীত হওয়ার পরও চার মাস ধরে কার্যাদেশ না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ প্রসঙ্গে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ইজারা কার্যক্রম ঝুলে থাকায় পর্যটন কেন্দ্রটির স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আদায় ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে কার্যাদেশ প্রদান কিংবা নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।



















