নজরুলের সাম্য ও মানবতার আদর্শে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে: ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী
-
অনলাইন ডেস্ক
- আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- চট্টগ্রাম
ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন,জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও সৃষ্টিশীল কর্মের চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতা জাগ্রত করতে হবে। একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নজরুলের আদর্শ হতে পারে আমাদের অন্যতম প্রেরণা।
প্রতিমন্ত্রী রবিবার চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে মাদ্রাসা ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০২৬ পুরস্কার ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন,কাজী নজরুল ইসলাম কেবল একজন কবি নন, তিনি সাম্য, মানবতা, প্রতিবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য প্রতীক। তাঁর সাহিত্য ও সংগীতে মানুষের অধিকার, মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের আহ্বান প্রতিফলিত হয়েছে।নতুন প্রজন্মকে নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও দর্শন সম্পর্কে জানতে হবে এবং তাঁর মানবতাবাদী চিন্তাকে নিজেদের জীবনে ধারণ করতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; পাশাপাশি সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে নিজেদের সৃজনশীলতা, মননশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে। বিশেষ করে মাদ্রাসা ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নজরুলের সাম্যের গান, হামদ, নাতসহ তাঁর সমৃদ্ধ সংগীত ও সাহিত্যকর্মের সঙ্গে পরিচিত হতে হবে। এসব চর্চা শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক বিকাশের পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, নজরুলের সৃষ্টিকর্মে ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং সবধরনের অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শিক্ষা রয়েছে। ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি কিংবা পরিচয়ের ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করার যে শিক্ষা নজরুল দিয়েছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল প্রতিযোগিতার আয়োজন শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করে। একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মানবিক, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। নজরুলের সাম্য ও মানবতার দর্শন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলে তারা সমাজের অন্যায়, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে সচেতন ভূমিকা রাখতে পারবে। নতুন প্রজন্মের চিন্তা, মনন ও কর্মে নজরুলের আদর্শের প্রতিফলন ঘটলেই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের পথ আরও সুগম হবে।
প্রতিমন্ত্রী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন,প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়। পুরস্কার অর্জনের পাশাপাশি জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হবে তাদের অন্যতম লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মোঃ শওকত আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রিয়


















