Advertisement

অবহেলিত শিশুদের পুনর্বাসন করাই সরকারের লক্ষ্য: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

অবহেলিত শিশুদের পুনর্বাসন করাই সরকারের লক্ষ্য: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
সুবিধাবঞ্চিত ও বিপন্ন শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশ, মানসম্মত শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসনে চট্টগ্রাম সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালিত কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন,শিশুদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে সৃজনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।অবহেলিত-অধিকার বঞ্চিত শিশুদের পুনর্বাসন করাই সরকারের লক্ষ্য। মন্ত্রী শুক্রবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফরহাদাবাদ অবস্থিত চট্টগ্রাম সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন । মন্ত্রী বলেন, সুবিধাবঞ্চিত ও বিপন্ন শিশুরা সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের অবহেলা নয়, বরং যথাযথ যত্ন, ভালোবাসা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজের যোগ্য ও আত্মনির্ভরশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি শিশুর মধ্যেই রয়েছে অপার সম্ভাবনা ও সুপ্ত প্রতিভা। এসব প্রতিভার বিকাশে মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল চর্চার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। পথশিশু ও ভিক্ষাবৃত্তি করা শিশুদের পুনর্বাসনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পথশিশু ও ভিক্ষাবৃত্তি করা শিশুদের পুনর্বাসনের জন্য তাদেরকে সবার আগে সাইকোসোশ্যাল মোটিভেশনের আওতায় আনতে হবে। এছাড়া তাদের পুনর্বাসন করা সম্ভব না। সে লক্ষ্যে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করছি। মন্ত্রী আরো বলেন, সরকার শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। কোনো শিশু যেন পরিচয়, পারিবারিক অবস্থা কিংবা আর্থসামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী আরো বলেন, সুবিধাবঞ্চিত ও বিপন্ন শিশুরা সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের যথাযথ পরিচর্যা, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সৃজনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মন্ত্রী আরো বলেন, শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার পাশাপাশি নিজের মেধা ও যোগ্যতা বিকাশের সুযোগ পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। চট্টগ্রাম সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার বলেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রীর এ পরিদর্শন কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের প্রতি উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগাবে। একই সঙ্গে শিশুদের সেবার মান আরো সমৃদ্ধ ও গতিশীল করতে এ পরিদর্শন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদী। কেন্দ্রে পৌঁছালে নিবাসী শিশুরা ফুল দিয়ে মন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। এ সময় শিশুদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটান এবং তাদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর নেন মন্ত্রী। পরে মন্ত্রী কেন্দ্রের বাগানে একটি পেয়ারা গাছের চারা রোপণ করেন। একই সঙ্গে শিশুদের সৃজনশীল উদ্যোগে প্রকাশিত দেয়ালিকা ‘আলোকবর্তিকা’র দ্বাদশ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার স্লাইড প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম, শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। পরে কেন্দ্রের নিবাসী শিশুদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শিশুরা নিজেদের হাতে পুঁতি দিয়ে তৈরি তাজমহলের একটি দৃষ্টিনন্দন শোপিস মন্ত্রীকে উপহার দেয়। শিশুদের এমন সৃজনশীলতা ও নান্দনিক কর্মদক্ষতায় মন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকেও তাকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবওদুল্লাহ আল মুমিন, চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, হাটহাজারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুজাহিদুল ইসলাম, মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা রঞ্জুসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।
জনপ্রিয়