অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করার প্রলোভন দেখিয়ে ৫ ভরি স্বর্ণ আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৪
-
অনলাইন ডেস্ক
- আপডেট সময় : ০৯:২২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
- মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে দুই দফায় ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় আত্মসাৎকৃত ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর গ্রামের করবুল নেছা (৬০), হিনাইনগর গ্রামের তাজ উদ্দিন (৪৫) এবং জুড়ী উপজেলার আমতৈল গ্রামের বিজয় বৈদ্য (৪৮) ও হরিরামপুর গ্রামের রিপন মিয়া (৩৮)।
পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী বড়লেখার হিনাইনগর গ্রামের রোকেয়া বেগমকে ফোন করে তাঁর অসুস্থ ছেলেকে কথিত ‘জিন্নী হুজুরের’ মাধ্যমে সুস্থ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ জন্য কিছু শর্ত পালনের পাশাপাশি বিষয়টি গোপন রাখতে বলা হয়। এমনকি কাউকে জানালে ছেলের ক্ষতি হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়।
ছেলের সুস্থতার আশায় ওই নারীর কথায় বিশ্বাস করে রোকেয়া বেগম প্রথম দফায় বাড়ির পেছনে একটি নির্দিষ্ট স্থানে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। পরে সেখানে গিয়ে সেগুলো আর পাননি। এরপর তাঁকে জানানো হয়, কথিত ‘জিন্নী মুমিন’ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন এবং এক মাসের মধ্যে ছেলে সুস্থ হওয়ার পাশাপাশি গয়নাও ফেরত দেওয়া হবে।
পরবর্তীতে গত ১৬ অক্টোবর একই নারী আবারও ফোন করে একই স্থানে স্বর্ণালংকার রাখতে বলেন। এবার না রাখলে ছেলে পাগল হয়ে যাবে বলে ভয় দেখানো হয়। আগের স্বর্ণালংকারসহ সবকিছু এক ঘণ্টার মধ্যে ফেরত পাওয়ার আশ্বাসে দ্বিতীয় দফায়ও স্বর্ণালংকার রেখে আসেন ভুক্তভোগী। কিন্তু এবারও সেগুলো আর ফিরে পাননি।
এভাবে দুই দফায় মোট ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১২ টাকা।
ঘটনার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১ নভেম্বর বড়লেখা ও জুড়ী থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে প্রথমে করবুল নেছা ও তাজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিজয় বৈদ্য ও রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে একটি সিতাহার, দুই জোড়া ঝুমকা ও একটি আংটিসহ আত্মসাৎকৃত সব স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। ভুক্তভোগী নিজেই উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ১ নভেম্বর বড়লেখা থানায় পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০/৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত চারজনকে ২ নভেম্বর বিধি মোতাবেক আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
জনপ্রিয়


















