Advertisement

ট্রাম্প এখন কার্যত ‘লেম ডাক’ প্রেসিডেন্ট

  • অনলাইন ডেস্ক অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৩৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
ট্রাম্প এখন কার্যত ‘লেম ডাক’ প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের শোচনীয় পরাজয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও ক্ষমতার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাম্প এখন অনেকটাই দুর্বল অবস্থানে। তার প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত, গুরুত্বপূর্ণ নীতির পরিবর্তন এবং অভিশংসনের উদ্যোগ নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের সামনে। একই সঙ্গে রিপাবলিকান পার্টির ওপরও ট্রাম্পের একচ্ছত্র প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াবুধবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে ট্রাম্পের এই পরাজয়কে নজিরবিহীন হিসেবে তুলে ধরেছে। সংবাদমাধ্যমটির মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ট্রাম্পকে কার্যত ‘লেম ডাক’ বা রাজনৈতিকভাবে দুর্বল প্রেসিডেন্টে পরিণত করেছে এবং ক্ষমতা হারানোর পথে নিয়ে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার মেয়াদ থাকলেও দল ও সরকারের ওপর আগের মতো প্রভাব ধরে রাখা কঠিন হবে।

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ

এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। এর ফলে আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে ট্রাম্পের আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় বাধার মুখে পড়তে হবে। তার প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ, বাজেট এবং আইনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তেও ডেমোক্র্যাটদের ভূমিকা বাড়বে।

তদন্ত ও অভিশংসনের ঝুঁকি 

ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন। বিশেষ করে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক কার্যক্রম, জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত তদন্ত পরিচালনা এবং সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ গুরুত্ব পেতে পারে। কংগ্রেসের কমিটিগুলো শুনানি, নথি তলব এবং কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে।

এমনকি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। তবে অভিশংসন প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও তাকে পদ থেকে সরাতে সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে।

রিপাবলিকান পার্টিতে প্রভাব কমার আশঙ্কা

গত কয়েক বছর ধরে রিপাবলিকান পার্টির ওপর ট্রাম্পের ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ ছিল। দলের প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণেও তার প্রভাব ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। কিন্তু এবারের নির্বাচনে তার সমর্থিত প্রার্থীদের বড় পরাজয় দলের ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ও শুরু হতে পারে।

যুদ্ধ ও অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ

ইরান যুদ্ধ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে তার দলের নির্বাচনি ক্ষতি হয়েছে। তবে যুদ্ধের সিদ্ধান্তকে ভুল বলতে রাজি হননি তিনি।

নির্বাচনে ঐতিহাসিক অর্জন ডেমোক্র্যাটদের

এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণই নেয়নি, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই সময়ে পাঁচজন কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। জর্জিয়ায় প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর, নিউ মেক্সিকোতে প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর এবং সিনেটে প্রথম আদিবাসী ও মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হওয়ার ঘটনাও এবারের নির্বাচনে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছরকে অনেক বেশি রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। তবে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাহী ক্ষমতা, ভেটো প্রয়োগ এবং পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার ক্ষমতা ট্রাম্পের হাতেই অবশিষ্ট থাকবে। ফলে তার রাজনৈতিক প্রভাব কমলেও প্রশাসনিক ক্ষমতা একেবারে শেষ হয়ে যাচ্ছে না।